অষ্টাদশ অধ্যায় পুরনো শিমুল গাছ : লোক ডাকার মধ্যে এমন কী আছে? [দ্বৈত অধ্যায়]

অনুসন্ধানের অভিনয়: আমি সত্যিই শুধু একজন অভিনেতা তবে নেশাগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করা। 4866শব্দ 2026-03-04 23:28:51

নিঃশব্দ ধ্যানকক্ষে ক্ষীণ মোমবাতির আলো প্রবীণ ভিক্ষুর বিশৃঙ্খল শ্বাসে বারবার দুলে ওঠে। দূরে দেবমূর্তির আসনে পূজিত এক দেবতার মুখচ্ছবি অস্পষ্ট। দেবাসনের সামনে, যেখানে সাধারণত ফলমুলের নিবেদন থাকার কথা, সেখানে সাজানো রক্তবর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সারি...

দুই পাশে দেয়ালে সারি ধরে অঙ্কিত আছে রক্তচন্দন লিপিতে লেখা আত্মার আসন, প্রতিটি আসনের সামনে রয়েছে একটি পিতল ধূপাধার। ঝাপসা আলোয় বোঝা যায়, প্রতিটি আসনে কোনও সাধুর ধর্মনাম খোদাই করা। সাধারণ পিতল ধূপাধারে জড়ো হয়েছে বেশ কিছু ছাই আর ধূপের টুকরো, স্পষ্টই বোঝা যায়, নিয়মিত প্রার্থনা চলে এখানে।

সমগ্র ধ্যানকক্ষে ম্লান মোমবাতির আলোয় আবহাওয়া বারবার পরিবর্তিত হয়। কিছুক্ষণ পরে, প্রবীণ ভিক্ষু শ্বেতপাখ ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসেন, দীর্ঘশ্বাস ফেলে খানিকটা শান্তিলাভ করেন। চামড়ার মতো শুকনো হাতে তিনি ঠোঁটের কোণে জমে থাকা সূক্ষ্ম লাল রক্তের রেখা মুছে ফেলেন। দুই পাশের দেয়ালে সাজানো আত্মাসনগুলোর দিকে তাকিয়ে তাঁর স্থির মুখে হালকা অনুতাপের হাসি ফুটে ওঠে।

শ্বেতপাখ ধীরে ধীরে হাত তুললেন, তিনটি ধূপ বাতাসে ভেসে উঠে স্থিরভাবে এক ধূপাধারে স্থাপিত হলো, ধোঁয়া ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ল। ধোঁয়ার স্রোত দেখে শ্বেতপাখ হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, দৃষ্টিতে বিষাদের ছাপ: ‘‘এভাবেই কেটে গেল, দাদা, তোমার চলে যাওয়ারও তো তিন বছর হলো, তাই না?’’

শুকনো ভিক্ষু মৃদু হাসলেন, দৃষ্টিতে বিষণ্নতা: ‘‘তোমার শাখার প্রদীপ জ্বালাতে পারিনি, এই প্রতিজ্ঞা রাখতে পারলাম না, ভাই।’’

নীরব কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে শ্বেতপাখ আপনমনে কথোপকথন চালিয়ে যান, ধূপের ধোঁয়ায় আত্মাসনের দিকে তাকিয়ে, যেন পুরনো বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতির নদীতে ভেসে যান, শতবর্ষের নানা ঘটনা মনে পড়ে। ধূপ যতক্ষণ জ্বলে, ভিক্ষু বলতেই থাকেন।

শেষ ধূপছাই ভেঙে পড়তেই তিনটি ধূপ নিভে যায়। শ্বেতপাখ তখন কথা থামান, আলোকিত দেবমূর্তির আসনের দিকে তাকিয়ে স্মরণ করেন সদ্য দেখা ছেঁড়া বস্ত্র পরিহিত তরুণ সাধুর কথা, চিরন্তন স্থির দৃষ্টিতে এবার এক ফালি হাসি খেলে যায়।

কিছুক্ষণ চিন্তা করে, শ্বেতপাখ দুই আঙুল তুললেন, বাতাসে তিনবার টোকা দিলেন। ঠিক তখনই নীরব কক্ষের দরজা আস্তে খুলে যায়, ভিতরে সরু এক আলোর রেখা ঢুকে পড়ে। এক সুদর্শন তরুণ ধীরে ধীরে প্রবেশ করে, প্রবীণ ভিক্ষুকে গভীর নমস্কার জানায়, হাঁটু গেড়ে বসে হাতে একটি বই ধরে শ্বেতপাখর সামনে উপস্থাপন করে গম্ভীর স্বরে বলে, ‘‘গুরুজি।’’

তরুণ পুরোহিত নন, চুল পেছনে বাধা, কপালে একগুচ্ছ চুল, বাঁ গালে গভীর ছুরির দাগ, চেহারায় কঠোরতা। প্রবীণ ভিক্ষু বইটি নিয়ে নামের তালিকাগুলো একবার দেখে হালকা স্বরে বলেন, ‘‘দামো শহরে আমাদের সব সদস্যদের জানিয়ে দাও, গোপন নথিপত্র সব সরিয়ে ফেলতে হবে, একটা চিলেও বাদ যাবে না।’’

‘‘ঠিক আছে!’’

কঠোর তরুণ মাথা নোয়াল, কিন্তু ভিক্ষুর ঠোঁটে রক্তের দাগ দেখে থমকে গেল, বিস্ময়ে বলল, ‘‘গুরুজি, এটা কী হল?’’

ভিক্ষু হেসে বললেন, ‘‘কিছু না, কেবল এক নবীন শিষ্যের সঙ্গে দূর থেকে কয়েক দফা দাবা খেলা।’’

তরুণ কিছু বলতে চাইলেও চুপ করে গেল। শ্বেতপাখ একের পর এক নামের তালিকা দেখে শেষে একটি জায়গায় থামলেন, নামপত্র বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘তুমি আগে যাত্রা করো যশোরে, ঐ ছেলেটির খোঁজ নাও।’’

‘‘যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তবে আমার দেওয়া জিনিস ওকে দেবে...’’ ভিক্ষু একটু থেমে আবার বলেন, ‘‘ওকে আমাদের গুরুকুলের উত্তরাধিকার জানাবে।’’

‘‘ঠিক আছে!’’

তরুণ নামপত্র নিল, ওপরের নাম দেখে কিছুটা বিস্মিত হলেও সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।

‘‘তুমি এবার শুধু ওর জন্যই যাচ্ছ না, দামো শহরে রক্তগোষ্ঠীর কেউ বিপদে পড়লে তাদেরও রক্ষা করবে।’’

তরুণ সম্মতি দিল। শ্বেতপাখ মূর্তির দিকে তাকিয়ে আরও বললেন, ‘‘এবার যশোরে গেলে আরেকজনের ওপর নজর রাখবে।’’

‘‘কার?’’ তরুণের চোখে হিংস্রতা জ্বলজ্বল।

ভিক্ষুর ঠোঁটে হাসি, ‘‘লু ছেন।’’

‘‘স্মরণ রেখো, ওর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেয়ো না, শুধু গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করো। আমি নদীর তীরে সেই পাপীটিকে সামলে নিয়ে তারপর যশোরে আসব।’’

শ্বেতপাখের কণ্ঠস্বর শান্ত হলেও গাম্ভীর্য আগের চেয়ে অনেক বেশি, দূরের দেবমূর্তির সামনে মোমবাতি প্রবীণ ভিক্ষুর প্রভাবে দুলতে থাকে।

তরুণ একটু ভেবে ভূমিতে কপাল ঠেকিয়ে নমস্কার করল, ‘‘চু সেন, গুরু আজ্ঞা পালন করব।’’

শ্বেতপাখ হাত নাড়লেন, ‘‘এবার যাও, আমি ক্লান্ত।’’

‘‘শিষ্য প্রস্থান করছি।’’

বলেই চু সেন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল, নামপত্র হাতে পিছিয়ে বেরিয়ে গেল। শেষ আলোর রেখাটি মিলিয়ে যেতেই ধ্যানকক্ষের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

পিতল ধূপাধারে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, প্রবীণ ভিক্ষু হালকা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন, ‘‘তোমার জন্য সামান্য হলেও প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে পারলাম।’’

এ কথা বলেই শুকনো হাতে প্রণাম করে তীব্র শক্তি দিয়ে সমগ্র বৌদ্ধমন্দির ভরে দিলেন।

---

যশোর নদীর পাড়ে।

তিনজন তাকিয়ে রইল লু ছেনের রাতের আকাশে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দিকে, মুখে গভীর জটিলতা। লি ইয়ান কষ্টে গিলতে গিলতে দক্ষিণ হুয়াইচিনের হাতে ধরা যুগল পতাকার দিকে তাকিয়ে বলতে চাইল, ‘‘লু ছেন...’’

জিন চেং কাঁধে হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কিছু বলল না।

রাতের নিস্তব্ধতায় তিনজনেরই হালকা দীর্ঘশ্বাস, যেন গৃহস্থালির ঝঞ্ঝাটে ক্লান্ত তিন মধ্যবয়স্ক পুরুষ, আর নেই সেই তরতাজা উচ্ছ্বাস, নেই নেতা ফাং ছিউয়ের সাহসী নির্দেশের গাম্ভীর্য।

...

‘‘প্রতিবেদন, স্থান পরিষ্কার সম্পন্ন!’’

অনেকক্ষণ পরে, প্রযুক্তিকর্মী ঝুপড়ি থেকে সংগৃহীত প্রমাণ সামগ্রী নিয়ে নির্দেশের অপেক্ষায় দাঁড়াল।

দক্ষিণ হুয়াইচিন সামান্য প্রমাণ দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, ‘‘পেছনের কবরস্থানে তল্লাশি হয়েছে তো?’’

‘‘হয়েছে, সব ফাঁকা কবর, শক্তি নিরীক্ষণেও কিছু ধরা পড়েনি।’’

লু ছেনের সেই তরবারির এক কোপে পুরো অশুভ রেখা নিশ্চিহ্ন, এখন কিছুই নেই, স্বাভাবিক। বৃদ্ধ নির্বাক মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, ‘‘নদীর পাড়ের বাঁশবন গোপনে নজরে রাখো, সন্দেহজনক কেউ যেন বাদ না পড়ে!’’

‘‘ঠিক আছে!’’

...

সবাই যখন আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে, বাঁশবনের পেছনে বিধ্বস্ত কবরস্থানে হঠাৎ এক পশলা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল।

ভাঙা অশুভ শক্তির গভীরে এক ক্ষীণ, সাদা অশরীরী আত্মা ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে, তার সঙ্গে কয়েকটি পিশাচের আত্মাও উপরে উঠে আসে।

নির্জন রাতে কেউ টের পায় না, ফাঁকা কবরস্থানে এক ফালি আলো ভেসে ওঠে, মুহূর্তে মিলিয়ে যায়।

---

ছায়ামন্দিরের পাশে।

গুরুগম্ভীর পুরাতন শিমুলগাছ রাতের আঁধারে মৃদু আলো ছড়িয়ে দেয়, তার পুরু ডালপালা যেন ইস্পাতের চাবুক, বাতাসে প্রস্তুত।

‘‘ঘেউ!’’

গাছের নিচে হলুদ কুকুর দাঁত বের করে সামনে তেড়ে আসে, পিঠে এক আহত লাল শিয়াল।

শিয়ালটি ছোট, রঙিন পশম সুন্দর হলেও এখন রক্ত আর ক্ষত-বিক্ষত। সে কুকুরের পিঠে নিস্তেজ, যন্ত্রণায় নাক কুঁচকে আছে।

দূরে কয়েকটি বিশাল বন্য নেকড়ে পড়ে আছে, দেহে খিঁচুনি, কারও কারও হাড় ভেঙে গেছে।

নেতা নেকড়েগুলোর দেহ সাধারণ নেকড়ের দ্বিগুণ, সবুজ চোখে হিংস্র আলো, তারা গাছ ও কুকুরের দিকে ভয়ানক মনোযোগ দেয়, মাঝে মাঝে দাঁত বের করে রাগ প্রকাশ করে।

পেছনে কিছু কম বুদ্ধিমান নেকড়ে গাছের পুরু ডালের দিকে তাকিয়ে শঙ্কিত। মন্দিরের সদগুণ ও কয়েকদিনের ধূপের শক্তিতে পুরনো শিমুলগাছের শক্তি বেড়েছে, কয়েকটা নেকড়ে ছাড়া কেউই তার কাছে আসতে সাহস পায় না।

গাছের মুকুট থেকে সবচেয়ে পুরু ডালটি মানুষের আঙুলের মতো নেড়ে নেকড়েদের ডাকে (এসো দেখি!)

চ্যালেঞ্জের মুখে, নেতা নেকড়ের চোখে আরও রাগ। এগিয়ে গিয়ে শিমুলগাছকে ছিঁড়ে ফেলতে চাইলেও শক্তিতে পিছিয়ে যায়।

শিমুলগাছের অদ্ভুত চেহারায় হিংসা বেড়ে যায়।

‘‘আউ—!’’

রাগী নেকড়ে গলা তুলে চিৎকারে রাতের পাহাড় কাঁপিয়ে তোলে।

...

কঠিন চিৎকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

চারপাশের বন্য প্রাণী ও দানবরা সেই ডাক শুনে মাথা তোলে, পাহাড়ের দিকে তাকায়।

কয়েক মিনিটেই পাহাড়ের চূড়ায় কোলাহল শুরু হয়। চারদিকে গাছের পাতায় শব্দ, একের পর এক ছায়া বেরিয়ে এসে নেকড়েদের পেছনে দাঁড়ায়।

এরা সবাই আশেপাশের বন্য দানব ও পাখি, নেকড়ের ডাকে এসে জড়ো হয়েছে।

দানব যত বাড়ে, নেকড়ের সাহসও বাড়ে, চোখে হিংস্র হাসি। অন্য নেকড়েরা মাটিতে থাবা ঘষে, দৃষ্টি জ্বলন্ত।

‘‘উঁ...’’

পরিস্থিতি বুঝে কুকুর নরম গলায় ডাকে, শিমুলগাছের দিকে তাকায়।

এক ভুরু উপরে, এক ভুরু নীচে, বারবার চোখ টিপে (ওরা দল ডেকেছে, এখন কী করব?)

গাছ হালকা দুলে (এ আর এমন কী!)

‘‘ঘেউ!’’ (কি বলছো!)

গাছের শাখা মৃদু ঘষে (চিন্তা কোরো না।)

‘‘ঘেউ, ঘেউ!’’ (তুমি বোধহয় পাগল!)

...

এই কথোপকথনের পর গাছের গোড়ায় গোপন চতুর্ভুজ চক্র হালকা আলো দেয়।

‘‘উঁ...’’

কুকুর অসহায় গলায় ডাকে, সামনে জমা দানবদের দিকে তেড়ে যায়, মাঝে মাঝে চেঁচিয়ে নিজের পক্ষের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করে।

লাল শিয়ালটি যন্ত্রণায় অজ্ঞান।

...

মাত্র দশ মিনিটে চূড়ায় চল্লিশের বেশি দানব জমা হয়, এক মুহূর্তে তাদের শক্তি আকাশচুম্বী।

দানব বাড়তেই নেকড়ের চোখে হিংস্রতা বাড়ে, ধাপে ধাপে গাছ ও তার নিচের কুকুর-শিয়ালের দিকে এগিয়ে আসে।

শিমুলগাছের শাখা আলো জ্বলে, ডালপালা আকাশে তুলে, যেন যেকোনো মুহূর্তে আঘাত করবে।

কিন্তু দানবরা তোয়াক্কা না করে এগোয়।

‘‘হুঁ, একদল অকর্মণ্য!’’

রাতের আঁধারে হঠাৎ এক কটকটে পুরুষ কণ্ঠ, অদ্ভুত উচ্চারণ।

দানবরা ভয়ে থেমে যায়, সবাই পিছু হটে পথ ছেড়ে দেয়।

আলো ঝলকে, মানুষ সমান উঁচু এক বানর সামনে এসে শিমুলগাছকে বিরক্তি নিয়ে দেখে।

‘‘চপ্!’’

বানরটা নেকড়ে নেতার মুখে থাপ্পড় মারল, সঙ্গে সঙ্গে রক্ত ঝরল।

বানরটা নেকড়ের গলা চেপে ধরে গাছের দিকে দেখিয়ে চিৎকার করল, ‘‘এত অকর্মণ্যকে কাকে ডাকছো?’’

‘‘উঁ...’’

নেকড়ে কুঁকড়ে গিয়ে আরও ভয়ে চুপ।

‘‘অকর্মণ্য!’’

বানরটা নেকড়েকে ছুড়ে ফেলল, বলল, ‘‘রাজা শহরের দক্ষিণের দানব-যোদ্ধা পরিষ্কার করতে বলেছে, তোমরা তো এক গাছও সামলাতে পার না।’’

সবাই মাথা নিচু করে, ভয়ে কিছু বলে না।

বানরটা এবার কুকুরের পিঠে লাল শিয়াল দেখে অবাক, ‘‘আরে, এই অকর্মণ্যটা এতদূর পালিয়ে এল!’’

‘‘ঘেউ!’’

বিপদ বুঝে কুকুর চেঁচিয়ে উঠল।

‘‘মূর্খ কুকুর, মরতে চাস?’’

বানরটা হাতে দানবশক্তি ছুড়ে মারল কুকুরের দিকে।

‘‘ঠাস ঠাস!’’

শিমুলগাছের ডাল নেমে এসে কুকুরকে রক্ষা করল।

কুকুর বেঁচে গেলেও গাছের অবস্থা খারাপ, ডালে গভীর ক্ষত, আলো নিভে আসে।

সবুজ পাতাগুলো ঝরে পড়ল।

বানরটা আরও এগিয়ে এসে হেসে বলল, ‘‘এখনও অন্যের খোঁজ রাখার সময়?’’

গাছের মুকুট ডান-বাম দুলে ডাল বাড়িয়ে পথ আটকাল (না, একটু অপেক্ষা করো!)

বানরটা থেমে গেল, ‘‘অপেক্ষা?’’

গাছ মাথা নাড়ল (হ্যাঁ!)

‘‘কিসের জন্য...’’

বানরটা প্রশ্নের মাঝপথে বুঝতে পারল কিছু একটা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে হাতের শক্তি গাছ, কুকুর, শিয়ালের দিকে ছুড়ে মারল, চিৎকার, ‘‘তোর জন্য আর কী! মর!’’

কালচে বেগুনি আলোয় বানরের হাত বিশাল, ধারালো নখ, শূন্যে ছুটে আসে।

‘‘উঁ...’’

কুকুর শিয়ালকে নিয়ে গাছের ছায়ায় গুটিয়ে গেল।

গাছের শাখা অগোছালো দুলে, প্রতিরোধ ছেড়ে দিল, ডালপালা সামনে নামিয়ে ঢেকে রাখল।

দানবরা আরও উত্তেজিত, কিন্তু হঠাৎ রাতের আঁধারে এক ঝলক আলো।

সবাই দেখল সামনে রক্তের রেখা।

বানরের হাত কাটা পড়ে মাটিতে, নখ কাঁপছে।

বানরটা হাঁটু গেড়ে পড়ে যন্ত্রণায় গোঙ্গাচ্ছে, হাত থেকে রক্ত ঝরছে।

কখন এক তরুণ সাধু হাতে পীচ কাঠের তরবারি নিয়ে দাঁড়িয়ে, চোখে শীতলতা।

রক্তের গন্ধে গাছ মাথা তুলে তরুণ সাধুর দিকে তাকিয়ে আনন্দে কুকুরকে ছেড়ে দিল।

বানরটার দিকে ডাল মেলে গাছের মাথা কাত করে পাতাগুলো দুলে যেন বলল (আমি লু ছেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তুমি কার জন্য?)

কুকুর সাধুর পায়ে ঘেঁষে আদর খায়।

গাছের অঙ্গভঙ্গি দেখে সাধু হাসলেন।

বানরটার মুখ বদলে গেল, দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ‘‘সাধু, আমি কঙ্কাল দানবরাজের হয়ে এসেছি, তোমার বিপদ ডেকে আনো না!’’

পাহাড়ভরা দানবের দিকে তাকিয়ে তরুণ সাধু হালকা হেসে বললেন, ‘‘কঙ্কাল দানবরাজ?’’’