৩৩তম অধ্যায়: আমি তোকে সম্মান দিয়েছিলাম
永利 টাওয়ারের ছয়তলায়, গ্রীষ্মকালীন পোশাক কোম্পানি।
চেন ইয়ে জানত না, ইয়ংলি গ্রুপকে শি পরিবার ও ঝৌ পরিবারের প্রতিশোধের বিষয়টি, সে জানত না ছিন শৌজিউ, ছিন বোইং, ছিন বো লি—এই তিনজনের কোনো পরিকল্পনা। সে অবসরে অফিসে বসে ফোনে ভিডিও দেখছিল।
তার অফিসটি ছিন মিয়াও ইয়ানের অফিসের পাশেই, মাঝখানে একটি অভ্যন্তরীণ দরজা। আসলে এটি ছিন মিয়াও ইয়ানের সহকারীর অফিস হওয়ার কথা, কিন্তু কোম্পানি চালু হওয়ার পর থেকে ছিন মিয়াও ইয়ান কখনোই সহকারী নিয়োগ করেনি, তাই অফিসটি ফাঁকাই পড়ে আছে।
হঠাৎ করে চেন ইয়ে শুনে, বাইরে থেকে ভারী পদচারণার শব্দ আসছে। সে ফোনটি নামিয়ে রাখল।
বেজে উঠল দরজাটি, কেউ জোরে ঠেলে খুলে ফেলল। একজন পুরুষ অফিসে ঢুকে পড়ল।
লোকটির চুল ছোট করে ছাঁটা, মুখমণ্ডল চওড়া, শরীর মোটা, পেটটা এত বড় যে মনে হয় গর্ভবতী। গায়ে কালো শার্ট, হাতে রোলেক্স ঘড়ি, কোমরে হার্মেসের বেল্ট, ঝকঝকে সোনালী এইচ চিহ্নটা চোখে পড়ার মতো, সারা দেহে এক ধরনের ‘আমার অনেক টাকা’—এমন দম্ভী ভাব ফুটে উঠছে।
সে মাথা ঘুরিয়ে, দুলতে দুলতে অফিসে এসে চেন ইয়ের দিকে আঙুল তুলে বলল, ‘‘তুমিই চেন ইয়ে?’’
‘‘আপনি?’’ চেন ইয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল, সে লোকটিকে চিনতে পারল না।
লোকটি গর্বে মাথা উঁচু করে বলল, ‘‘আমার নাম ছিন হোংওয়ে, ইয়ংলি গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক, ছিন মিয়াও ইয়ানের চাচাতো ভাই।’’
‘‘ভালো, হোংওয়ে দাদা।’’ জানার পর যে সে ছিন মিয়াও ইয়ানের চাচাতো ভাই, চেন ইয়ে হাসিমুখে উঠে দাঁড়াল। যদিও সে জানত না লোকটির উদ্দেশ্য কী, তবে ছিন মিয়াও ইয়ানের সম্মানার্থে হাসিমুখে স্বাগত জানাল।
ছিন হোংওয়ে দু’হাতে পকেটে রেখে অবজ্ঞাসূচক কণ্ঠে বলল, ‘‘বারবার আমায় দাদা বলো না। কে তোমার দাদা? এক জন জেল থেকে সদ্য ছাড়া পাওয়া খাটুনি-মজুর আমার দাদা ডাকবে? তোমার সে যোগ্যতা নেই।’’
‘‘মিয়াও ইয়ান এখানে নেই।’’
ছিন হোংওয়ে’র ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথায় চেন ইয়ে হাসি থামিয়ে নিরাসক্তভাবে চেয়ারে বসে পড়ল।
চেন ইয়ে’র মুখের হাসি উধাও দেখে ছিন হোংওয়ে তার সামনে বসে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, ‘‘আমি মিয়াও ইয়ানকে খুঁজছি না, তোমাকেই খুঁজছি।’’
‘‘আমরা তো একে অপরকে চিনি না, আমাকে কী দরকারে খুঁজছেন?’’ চেন ইয়ে ভ্রু তুলে সন্দেহ প্রকাশ করল, তবুও জিজ্ঞেস করল।
ছিন হোংওয়ে এক পা আরেক পায়ের ওপর তুলে চোখ কুঁচকে ঠাট্টার হাসি দিয়ে বলল, ‘‘আমার সঙ্গে নাটক করছো? কেন খুঁজেছি, বুঝতে পারছো না?’’
চেন ইয়ে চুপচাপ ছিন হোংওয়ের দিকে তাকিয়ে থাকল। সে চেয়েছিল এক চড়ে লোকটিকে বের করে দেয়, কিন্তু ছিন মিয়াও ইয়ানের চাচাতো ভাই ভেবে আর কিছু বলল না।
ছিন হোংওয়ে বড় সোনার ঘড়ি ঝাঁকিয়ে বলল, ‘‘আমি আর ঘুরিয়ে বলব না। মিয়াও ইয়ানকে ছেড়ে দাও, তোমাকে দশ লাখ দেব। আরও চাইলে চাকরির ব্যবস্থাও করে দেব।’’
‘‘শুধু দশ লাখ?’’
চেন ইয়ে হেসে উঠল।
‘‘বিশ লাখ!’’
‘‘পঞ্চাশ লাখ!’’
ছিন হোংওয়ে তিনবার দাম বাড়াল, তবুও চেন ইয়ে নির্লিপ্ত; সে ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘‘বলো, কত চাও?’’
‘‘এই সংখ্যাটা।’’
চেন ইয়ে এক আঙুল তুলল।
‘‘এক কোটি?’’
ছিন হোংওয়ের চোখ বিস্ফারিত, তারপর চেন ইয়েকে হিংস্র দৃষ্টিতে তাকাল, যেন বলছে—তুমি তো চড়া দাম হাঁকছো!
কিন্তু—
চেন ইয়ে মাথা নেড়ে অবাক করে বলল, ‘‘একশ’ কোটি।’’
ছিন হোংওয়ে’র চোখ গোল হয়ে গেল। প্রথমে বোকার মতো চেয়ে থাকল, এরপর বুঝল চেন ইয়ে তার সঙ্গে মজা করছে। সঙ্গে সঙ্গে সে টেবিল চাপড়ে বলল, ‘‘ছেলের পোলা, আমি তো তোমার মা আর আমার মায়ের বন্ধুত্বের খাতিরে কথা বলছি, তুমি আমায় নিয়ে মজা করছো?’’
‘‘ঠিক মজা করেই বলছি, কারণ, আমার আর মিয়াও ইয়ানের ব্যাপারে তোমার কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’’
চেন ইয়ে অলসভাবে চেয়ারে হেলান দিল, ইতিমধ্যে ছিন হোংওয়েকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। কিন্তু ছিন হোংওয়ে যদি বারবার অপমান করতে চায়, সে আর সহ্য করবে না।
ছিন হোংওয়ে রাগে গর্জে উঠে দাঁড়াল, হুমকিস্বরূপ বলল, ‘‘ছেলের পোলা, আমি তো তোমাকে সম্মান দেখালাম, তাই তো? শোনো, শুধু মুখের কথার বিয়ে নিয়ে কোনোভাবে স্বপ্ন দেখো না যে তুমি রাজহাঁসের সঙ্গে বিয়ে করবে—এটা অসম্ভব! আমাদের ছিন পরিবারে কেউ তোমাকে দেখবে না, আমাদের ঘরেই ঢুকতে পারবে না! তুমি যদি আমাদের বাড়িতে জামাই হওয়ার স্বপ্ন দেখো, আমাদের কুকুরও তোমাকে পাত্তা দেবে না!’’
‘‘ছিন হোংওয়ে, তুমি কী করছো?’’
এবার চেন ইয়ে কিছু বলার আগেই, দরজার সামনে হাই হিলের শব্দে ছিন মিয়াও ইয়ান দ্রুত অফিসে ঢুকে ছিন হোংওয়েকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকাল।
‘‘মিয়াও ইয়ান ফিরে এসেছে! আমি কিছু করিনি, শুধু ওর সঙ্গে একটু কথা বলছিলাম।’’
ছিন হোংওয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি এনে বলল। তার আদেশ ছিল, মিয়াও ইয়ানকে না জানিয়ে চুপিচুপি চেন ইয়েকে খুঁজে, যাতে চেন ইয়ে নিজে থেকে সরে যায়।
কিন্তু—
তার গলা এত চড়া ছিল যে মিয়াও ইয়ান সব শুনেছে। সে রেগে বলল, ‘‘তুমি কী বলেছো, আমি সব শুনেছি! ছিন হোংওয়ে, আমার ব্যাপারে তোমার কিছু বলার অধিকার নেই!’’
‘‘মিয়াও ইয়ান, আমি তো চাইনি। দাদু, তোমার বাবা, আমার বাবা—সবাই আমায় পাঠিয়েছে।’’
ছিন হোংওয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল।
ছিন মিয়াও ইয়ান ঠান্ডা গলায় বলল, ‘‘তাদের আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি।’’
‘‘তারা তোমাকে বোঝাতে পারছে না বলে আমায় পাঠিয়েছে।’’
ছিন হোংওয়ে চেন ইয়েকে দেখিয়ে বলল, ‘‘তুমি তো তোমার মায়ের আর ওর মায়ের বন্ধুত্ব, তার ওপর তোমার মা খুব আবেগপ্রবণ, তাই করুণাবশত বিয়ে ভাঙলে না, কিন্তু ও তো একটুও বাস্তবতা বোঝে না! আর স্বপ্ন দেখে রাজহাঁসের সঙ্গে বিয়ে করবে, তাই তো?’’
‘‘চুপ করো! এটা আমার ব্যাপার, তোমার কোনো অধিকার নেই, কথা বলারও নয়!’’
ছিন মিয়াও ইয়ান রেগে উঠল।
ছিন হোংওয়ে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের চাচাতো ভাইয়ের পরিচয়ে বলল, ‘‘ছিন মিয়াও ইয়ান, তুমি কি বোকা? শুধু বিয়ের চুক্তির জন্য নয়, যদি ভালোও বাসো, এই ছেলেটার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত নয়! সে তো জেল থেকে সদ্য ছাড়া পেয়েছে, কিছুই নেই ওর—কি জো বাইফেংয়ের সঙ্গে তুলনা, আমাদের শ্রমিকদের থেকেও খারাপ…’’
‘‘আমার জো বাইফেংয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, সবই তোমাদের কল্পনা!’’
ছিন মিয়াও ইয়ান রাগে নীল হয়ে বলল।
ছিন হোংওয়ে আরও চটে উঠে চিৎকার করল, ‘‘ছিন মিয়াও ইয়ান, বলছি, ওই খাটুনি-মজুরের জন্য তুমি যদি জো পরিবারে বিয়ে করার সুযোগ হারাও, সারাজীবন আফসোস করবে, আমাদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে…’’
‘‘ছিন হোংওয়ে, এখনই বেরিয়ে যাও!’’
ছিন মিয়াও ইয়ান শীতলভাবে বাধা দিল।
ছিন হোংওয়ে ওর কথা উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী ভঙ্গিতে চেন ইয়েকে হুমকি দিল, ‘‘শোনো চেন, আজ আমি এসেছি মিয়াও ইয়ানের সম্মানে, তুমি বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবে না…’’
‘‘তুমি কি বধির? আমাদের বস বলছে বেরিয়ে যেতে!’’
চেন ইয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নির্দ্বিধায় ছিন হোংওয়ের কথা কেটে দিয়ে সামনে এগিয়ে গেল, তাকে বের করে দিতে।
‘‘ছেলে, আমি দেখি তোমার ঘাড়ে মার খেতে বাকি আছে!’’
ছিন হোংওয়ে রেগে গিয়ে চেন ইয়েকে এক চড় মারতে গেল।
চেন ইয়ে ভ্রু তুলল, বাম হাত সামনে তুলে, ডানহাত দ্রুত ছুড়ে দিল।
চপাট শব্দে ছিন হোংওয়ের হাত চেন ইয়ের বাহুর ওপর পড়ল, মনে হলো লোহার পাতের ওপর আঘাত করেছে, হাতের হাড় ভেঙে যাচ্ছে, প্রচণ্ড যন্ত্রণা।
একই সঙ্গে চেন ইয়ে ডানহাতে ছিন হোংওয়ের গলা চেপে ধরে তাকে সহজেই উপরে তুলে নিল।
‘‘উঁ…’’
ছিন হোংওয়ে কিছু বলার চেষ্টা করল, কিন্তু গলা চেপে ধরা থাকায় শব্দ বেরোল না, মুখ লাল হয়ে উঠল, শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা।
পরক্ষণেই চেন ইয়ে তাকে আবর্জনার মতো ছুড়ে বাইরে ফেলে দিল।
‘‘গড়াত…’’
ছিন হোংওয়ের ভারী দেহ মেঝেতে ধাক্কা খেল, গম্ভীর আওয়াজ, কিন্তু সে গায়ের ব্যথার তোয়াক্কা না করে হাঁফাতে লাগল।
‘‘হু… হু… হু…’’
তিনবার দম নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলো, উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করল, ‘‘নালায়েক, এটা শেষ হয়নি, দেখে নিস!’’
‘‘বোঝে, ছোটরা পারলে না, বড়দের কাছে নালিশ করতে যায়। চাইলে বলো, সাহস থাকলে অফিস ছাড়ো না।’’
চেন ইয়ে ঠোঁটে ঠান্ডা হাসি টেনে বলল, যদি ছিন মিয়াও ইয়ান না থাকত, সে ছিন হোংওয়েকে কয়েকটা চড় দিত।
‘‘তুমি…’’
ছিন হোংওয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে চলে গেল, কারণ সে বুঝে গিয়েছে চেন ইয়ের কাছে সে কিছুই নয়।
চেন ইয়ে ফিরে ছিন মিয়াও ইয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘মিয়াও ইয়ান, ও-ই প্রথম হাত তুলেছিল।’’
‘‘চেন ইয়ে, ওদের কথায় কান দিও না, আমার জো বাইফেংয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই! আর তুমি ওদের মতো নও, তুমি ভালো, ওদের কথা কানে নিও না…’’
ছিন মিয়াও ইয়ান আশ্চর্যভাবে চেন ইয়েকে দোষ না দিয়ে তার ভালো দিকগুলো বলল।
চেন ইয়ে একটু থমকে গেল, তারপর মুচকি হেসে বলল, ‘‘তুমি কি ভেবেছো আমি ভুল বুঝব?’’
‘‘না… তা না।’’
ছিন মিয়াও ইয়ান একটু ভয় পেয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল।
চেন ইয়ে বুঝল তার অনুমান ঠিক, কিন্তু কিছু বলল না, মুগ্ধ হয়ে ছিন মিয়াও ইয়ানের লজ্জিত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পরে, ছিন মিয়াও ইয়ান নিজেকে সামলে নিয়ে, চেন ইয়ে’র হাসিমুখ দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘‘চেন ইয়ে, ছিন হোংওয়ে তোমাকে এত খারাপ বলল, তুমি এতটা রাগ করোনি?’’
‘‘আমি তো তোমায় আগেই বলেছি, বিশাল ড্রাগন কখনো পিঁপড়ের চিত্কার নিয়ে মাথা ঘামায় না…’’
চেন ইয়ে স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিল, তারপর চেয়েছিল জো বাইফেংয়ের ব্যাপারে কিছু বলবে।
কিন্তু—
ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই ছিন মিয়াও ইয়ান বাধা দিল, ‘‘তুমি আবার শুরু করেছো, এখন আবার বলবে তোমার জেলে কত বড় বড় লোক ছিল? আমি মিটিংয়ে যাচ্ছি। হোংওয়ে পরে কিছু করলে আমাকে ফোন দিও, আমি আমার দাদুর কাছে যাব!’’
চেন ইয়ে উত্তর দিতে পারল না, শুধু দেখল ছিন মিয়াও ইয়ান কোমর দুলিয়ে, হাই হিল পরে চলে গেল।
আর ছিন হোংওয়ে গ্রীষ্মকালীন পোশাক কোম্পানি থেকে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বেরিয়ে ফোনে ডায়াল করল।
‘‘দা ভাই, একটা লোককে শিক্ষা দিতে হবে!’’
ছিন হোংওয়ে সরাসরি বলল।
দা ভাই ছিল চিংলুং সংঘের শীর্ষ সদস্য, তার অধীনে অনেকে কাজ করে।
গত দুই-তিন বছরে, ছিন হোংওয়ে প্রকল্পে জমি দখল, বাধা, টাকার সমস্যা—সব সলভ করত দা ভাইকে দিয়ে।
ফোনের ওপারে, দা ভাই কড়া গলায় বলল, ‘‘তুমি জানো না চিংলুং সংঘে সমস্যা হয়েছে? এখন লোক মারার কথা বলছো? মাথা খারাপ নাকি?’’
‘‘দা ভাই, কী হয়েছে?’’
‘‘বাইয়ে মারা গেছে!’’
‘‘কি… কী? বাইয়ে মারা গেছে? কীভাবে?’’
ছিন হোংওয়ে চমকে উঠল। সে খুব একটা কিং বার-এ যেত না, মনে করত ওখানকার মেয়েরা কপট, আসল পণ্য বিক্রি করে দামি পণ্য সাজিয়ে। তবে সে বাইয়ে’কে চিনত—দা ভাইয়ের চেয়ে অনেক বড় কেউ!
দা ভাই সম্মানের সঙ্গে বলল, ‘‘শুনেছি, বাইয়ে কোনো বড় লোককে অপমান করেছিল, বিস্তারিত জানি না। এই মুহূর্তে আমাদের সংঘে বিশৃঙ্খলা, আমাকে ঝামেলায় ফেলো না!’’
‘‘দা ভাই, আমারটা ছোট ব্যাপার। জেল থেকে সদ্য ছাড়া পাওয়া এক খাটুনি-মজুর আমার চাচাতো বোনের পেছনে লেগে আছে। তুমি শুধু ওকে একটু শাসিয়ে দেবে, যাতে ও দূরে থাকে—এতেই হবে। ইয়ংলি টাওয়ারে করো। কাজ হলে তোমায় তিরিশ লাখ দেব, সবার জন্য পার্টি করো!’’
‘‘ঠিক আছে, এখনই লোক নিয়ে যাচ্ছি!’’
ছিন হোংওয়ে’র কথা শুনে দা ভাই নিশ্চিন্তে রাজি হয়ে গেল।
এদিকে—
চিংলুং সংঘের নেত্রী ঝুয়ে ছিং তার বিখ্যাত রোলস-রয়েস ফ্যান্টমে চড়ে ইয়ংলি টাওয়ারের দিকে যাচ্ছে।
তার লক্ষ্য—চেন ইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
…