১১৩তম অধ্যায় ছোট খরগোশ, তোমার রক্ত সত্যিই মিষ্টি ৩৩
নিচে এখনও অস্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে পুলশঙ্খের ফিসফিসানি, মদ ওখানে।
তাহলে একটা চিহ্ন দেওয়া উচিত ছিল!
এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কাকে দোষ দেব?
শ্বেতখরগোশ অজ্ঞানতাবশে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন নিচে যন্ত্রের গুঞ্জন শোনা গেল।
শ্বেতখরগোশের মন ভারাক্রান্ত, এত শব্দ কেন!
সে মাথা গুঁজে রেখে আরও ঘুমাতে থাকল।
ঘরের ভেতর নির্ভরযোগ্য পদচিহ্নের শব্দ পাওয়া গেল, সেটি শীতরাত্রি জ্যোতি।
শ্বেতখরগোশ তখনও নড়ল না।
‘‘ক্ষুধা লাগছে না? এখনও উঠলে না, আমায় কি নিজে এসে ডেকে তুলতে হবে?’’ শীতরাত্রি জ্যোতি তার দিকে ঝুঁকে, বড় হাত দিয়ে কম্বল সরিয়ে দিল, ‘‘জেগেছ?’’
‘‘উঁ... খুব শব্দ হচ্ছে...’’ শ্বেতখরগোশ চোখ আধবোজা করে, ছোট হাতটা তার বাহুতে রাখল, ‘‘তোমরা কি মদ খুঁজছ?’’
‘‘হ্যাঁ, পুলশঙ্খ জিদ করছে, তার মুখে জল পড়ছে। সারাক্ষণ এখানে গোলমাল করছে, তার চেয়ে আগে খুঁজে পাওয়া ভালো!’’ শীতরাত্রি জ্যোতি তার কব্জি ধরে, তাকে কোলে তুলে নিল, ‘‘গতকাল রাতে আমি ছিলাম না, ভালো ঘুমিয়েছ?’’
‘‘ভালো হয়নি...’’
‘‘তাহলে, তুমি চাও আমি ভবিষ্যতে তোমাকে ঘুমাতে সঙ্গ দিই?’’ শীতরাত্রি জ্যোতির চোখে হাসির ঝিলিক, ‘‘তাই তো?’’
‘‘না...’’
গতকাল সরাসরি চলে গেল, আজ আবার এসে তাকে উত্যক্ত করছে?
‘‘আমায় ছেড়ে দাও, আমি নিজেই উঠে যাব, ধুয়ে নেব! তুমি মদ খুঁজো! হঠাৎ আমিও মদ খেতে চাইছি!’’ শ্বেতখরগোশ মুখ গম্ভীর করল।
‘‘খেতে চাও?’’ শীতরাত্রি জ্যোতি তাকে নামিয়ে দিল, ‘‘সত্যি?’’
‘‘হ্যাঁ, খুবই চাই!’’, শ্বেতখরগোশ বারবার মাথা নাড়ল।
শীতরাত্রি জ্যোতির চোখে স্নেহের ছায়া, তারপর সে চলে গেল।
——
কিছুক্ষণ পরে শ্বেতখরগোশ নিচে নামল, টেবিলে দুইটি জার ‘কন্যার লাল’ রাখা।
পুলশঙ্খ তাকে দেখে, মনের চেপে রাখা ক্ষোভ হঠাৎ বিস্ফোরণের পথ পেল, ‘‘ছোট খরগোশ, তুমি বিচার করো, এই মানুষটা! খুবই খারাপ!’’
‘‘কি হয়েছে?’’ শ্বেতখরগোশ শীতরাত্রি জ্যোতির দিকে তাকাল।
শীতরাত্রি জ্যোতি লম্বা পা ছড়িয়ে সোফায় বসে, একেবারে নির্ভার ভঙ্গি।
‘‘ও জানে আমি কোথায় মদ লুকিয়ে রেখেছি, মাত্রই নিচে এসে লোক দিয়ে সেটা খুঁড়ে তুলল, গতকাল রাতে আমাকে কতক্ষণ খুঁজতে হলো, বাইরে বিশাল যন্ত্র দিয়ে লন খুঁড়ে ফেলল! ইচ্ছা করে মানুষকে অস্থির করছে, না, তোমরা দু’জন আমাকে ক্ষতিপূরণ দাও!’’ পুলশঙ্খ শ্বেতখরগোশের গলা লক্ষ্য করল, ‘‘এক চুমুক দাও তো...’’
‘‘স্বপ্নে দেখো!’’, শ্বেতখরগোশ সোজাসুজি তার পাশ দিয়ে চলে গেল, ‘‘তুমি আমার রক্ত খেতে চাও, কন্যার লালও তোমাকে দেব না!’’
তবে শ্বেতখরগোশও মনে করছে শীতরাত্রি জ্যোতি ততটা নিরস মানুষ নয়, যে ইচ্ছা করে নিজের লন খুঁড়বে।
ইচ্ছা করে পুলশঙ্খকে মজা করানো সম্ভব, কে বলেছে, সে তো সারাক্ষণ তার রক্ত খেতে চায়!
‘‘আমি তো শুধু লনটা উল্টাতে চাইছিলাম, এত বাড়াবাড়ি কেন?’’ শীতরাত্রি জ্যোতি শান্তভাবে বলল, ‘‘তুমি আবার বলবে তার রক্ত খেতে চাও, এই জীবনেও এখানে ঢুকতে পারবে না! তোমাকে স্বাগত নয়।’’
‘‘বলব না, বলব না, মনে মনে ভাবছি!’’ পুলশঙ্খ আনন্দে দৌড়ে কাংক্ষিত কন্যার লাল তুলে নিল।
‘‘কী দারুণ গন্ধ...’’
শ্বেতখরগোশ appena দুধের এক চুমুক খেল, পুলশঙ্খ মদের জার নিয়ে ডাইনিং টেবিলে এল।
সামনে তিনটি বড় বাটি, জারটা বুকে নিয়ে বসে, একেবারে উদারভরা ভঙ্গি।
‘‘এটা তো দারুণ সুন্দর! হালকা পীতাভ...’’
শ্বেতখরগোশ কখনও কন্যার লাল দেখেনি, শুধু টিভিতে শুনেছে, খুব কৌতূহলী।
লেখার জন্য, যদিও অনেক গল্প অসম্পূর্ণ, তবুও সে অনেক তথ্য খুঁজেছে।
কন্যার লাল মেয়েসন্তান জন্মালে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়, মেয়ের বিয়ের সময় তুলে পান করা হয়।
মেয়েসন্তান?
তাও আবার শীতরাত্রি জ্যোতির বাড়িতে পুঁতে রাখা।
শ্বেতখরগোশ চোখ আধবোজা করে মদের সুবাসে এগিয়ে আসা শীতরাত্রি জ্যোতির দিকে তাকাল, ‘‘তুমি কি আগে কোনো মেয়েকে পেয়েছিলে?’’
‘‘সে তো কোনো নারীই পায়নি, মেয়েসন্তান হবে কীভাবে!’’ পুলশঙ্খ মদের বাটি তুলে নিল, ‘‘উঁ... দারুণ গন্ধ!’’
‘‘মেয়েসন্তান নেই, দু’জন পুরুষ, কন্যার লাল বানালে কেন?’’
শ্বেতখরগোশ মুখ গম্ভীর করল।